বাংলার মাঠেঘাট, পুকুরপাড় কিংবা জলাভূমির ধারে প্রায়ই উড়ে বেড়ায় এক অনন্য সুন্দর পতঙ্গ—ফড়িং। ক্ষণিকের রঙিন উড়াল দেখে অনেকেই মুগ্ধ হন। কিন্তু এই পতঙ্গ শুধু সৌন্দর্যের নয়, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষারও এক অদৃশ্য যোদ্ধা।
জানেন কি, একটি পূর্ণবয়স্ক ফড়িং দিনে গড়ে ১০০ থেকে ৩০০টি মশা খেয়ে ফেলে?
একটি ফড়িং তার পুরো জীবনে হাজার হাজার মশা নিঃশেষ করে।
তাদের চোখ খুব তীক্ষ্ণ, ডানা অতি গতিশীল আর প্রতিক্রিয়াও ক্ষিপ্র। এজন্য ক্ষুদ্র ও চঞ্চল শিকার যেমন মশাকে তারা সহজেই ধরতে পারে। তাদের শিকারের সফলতার হার প্রায় ৯৫ শতাংশ—যা পৃথিবীর যেকোনো শিকারির চেয়ে বেশি।
ফড়িং শুধু মশাই নয়, মাছি, ক্ষতিকর পোকামাকড়, এমনকি কীটপতঙ্গের ডিমও খেয়ে ফেলে।
তাই বিজ্ঞানীরা ফড়িংকে বলেন ‘প্রাকৃতিক কীটনাশক’। কোনো রাসায়নিক ছাড়াই তারা পরিবেশকে রাখে সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ।
আমাদের অনেকেই অজ্ঞতা বা খেলার ছলে ফড়িং মেরে ফেলে। কিন্তু একটি ফড়িং মারা মানে প্রতিদিন শতাধিক মশাকে বাঁচিয়ে দেওয়া।
আর এই মশাই তো ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া কিংবা জিকার মতো রোগের বাহক। অর্থাৎ আমরা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতির পথ তৈরি করছি।
ফড়িংকে বলা হয় ‘সূচকপ্রজাতি’।
যেখানে ফড়িং আছে, সেখানকার জলাশয় সুস্থ, বায়ু বিশুদ্ধ আর প্রকৃতি জীবন্ত থাকে।
কিন্তু জলাভূমি ধ্বংস, অতিরিক্ত কীটনাশক, দখল আর নগরায়ণের কারণে তাদের সংখ্যা কমছে। এতে প্রকৃতির ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে।
ফড়িং দেখলে মেরে না ফেলে রক্ষা করা
জলাশয় ও গাছপালা সংরক্ষণ
শিশুদের শেখানো—ফড়িং খেলনা নয়, প্রকৃতির বন্ধু
কীটনাশক ও রাসায়নিক স্প্রে কমানো
শহর ও গ্রামে জলাভূমি রক্ষা করা
ফড়িংকে রক্ষা মানে নিজেদের ও প্রকৃতির জীবনকে রক্ষা করা।
তাদের উড়তে দিন—কারণ তারা নীরবে, নিঃস্বার্থে আমাদের রক্ষা করে চলেছে।