1. nahin665@gmail.com : Nk :
  2. kayesahmedsalimbd@gmail.com : admin : Kayes Ahmed Salim
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও আজীবন ভোগদখল করবেন বাবা-মা ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন এমপি হারুন অর রশিদ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই আমরা বাংলাদেশি : প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ড. এম এ কায়ুমের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেলেন ফয়সাল হোসাইন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ আইহান ও ইহান সরকারের আকিকা অনুষ্ঠানে এলজিআরডি মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান চলতি অর্থবছরেই মধ্যেই দেশের সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন : প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম স্বাভাবিক হয়ে আসছে গ্যাস সরবরাহ; বিদ্যুতে কমিয়ে শিল্পে গ্যাস বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত

৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যে নগ্ন ক্ষতি ও বিভ্রান্তিকর অধ্যায় রচিত হয়েছে, তার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই

মোস্তাফিজুর রহমান সুমন
  • আপডেট সময়: শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬

বৈষম্য বিরোধী নামে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে গণপত্থানের রূপ নেয় , তা জনগণের আশা–আকাঙ্ক্ষা পূরণের পরিবর্তে আজ রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনীতিকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই ক্ষতির ঐতিহাসিক দায় বহন করতে হবে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, নাহিদ ইসলাম, মাহফুজ আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, হান্নান মাসুদ, আরিফ আদি, আক্তার হোসেন, সামান্থা শারমিন ও তাসনিম জারা শহরসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে।

এই বিপর্যয়ের সূচনা হয় তাদের প্রথম ভুল সিদ্ধান্তের মাধ্যমে—অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে তিনজন ছাত্র উপদেষ্টার যোগদান। জনগণের আন্দোলনকে রাষ্ট্রক্ষমতার অলিন্দে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের এই প্রবণতা গণঅভ্যুত্থানের নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। আন্দোলনের নেতৃত্ব রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার হয়ে পড়ায় জনআস্থায় প্রথম ফাটল সৃষ্টি হয়।

দ্বিতীয় বড় ভুল ছিল গণঅভ্যুত্থানের সকল স্টেকহোল্ডারকে অস্বীকার করে নিজেদেরকে ‘মহানায়ক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা। একটি গণআন্দোলন কখনোই ব্যক্তি বা ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর একচ্ছত্র কৃতিত্ব হতে পারে না। এই আত্মকেন্দ্রিকতা আন্দোলনের ঐক্য ভেঙে দেয় এবং ভিন্নমতকে দমন করার পথ প্রশস্ত করে।
তৃতীয় ভুল হিসেবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়, যা ছিল গণআন্দোলনের অন্যতম সংগঠিত কাঠামো। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নেতৃত্বের সরাসরি সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয় এবং সাংগঠনিক শূন্যতা তৈরি হয়।

চতুর্থ ভুল ছিল নিজেরাই এনসিপি নামক রাজনৈতিক দল ঘোষণা করা। জনগণের ম্যান্ডেট, বিস্তৃত রাজনৈতিক সংলাপ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাড়া একটি আন্দোলন থেকে হঠাৎ রাজনৈতিক দলে রূপান্তর জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এটি গণঅভ্যুত্থানকে একটি সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে বন্দী করে।

পঞ্চম এবং সবচেয়ে মারাত্মক ভুল ছিল ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান দিয়ে প্রতিস্থাপনের অপচেষ্টা। এটি শুধু ইতিহাস বিকৃতি নয়, বরং বাংলাদেশের জন্ম ও মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করার শামিল। এ ধরনের বক্তব্য ও অবস্থান জাতীয় চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত।

ষষ্ঠ ভুল হিসেবে একাত্তরের ষড়যন্ত্রকারীদের পরামর্শে চলার অভিযোগ আজ জনমনে প্রবলভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সঙ্গে নীতিগত আপস দেশের জন্য কখনোই কল্যাণ বয়ে আনে না।
সপ্তম ভুল ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহত পরিবারগুলোর খোঁজখবর না নিয়ে নেতৃত্বের আত্মঅহংকারে নিমজ্জিত হওয়া। যারা রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে—তাদের অবহেলা করে ব্যক্তিগত ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারে ব্যস্ত থাকা নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য।

অষ্টম ভুল হিসেবে জুলাই সালাতের সাক্ষরে অংশগ্রহণ না করা জনগণের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুভূতিকে আঘাত করেছে। এটি আন্দোলনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের আত্মিক সম্পর্ক দুর্বল করেছে।

নবম ভুল ছিল বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নামকাওয়াস্তে অংশগ্রহণ করে কার্যত জামায়াতকে বিজয়ী হতে সহায়তা করা। এর মাধ্যমে প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতির জায়গা সংকুচিত হয়েছে।

দশম ও সর্বশেষ ভুল ছিল নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বিলিয়ে দিয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনী অংশগ্রহণ। এর ফলাফল হিসেবে দল থেকে অর্ধশতাধিক বিশ্বনেতার পদত্যাগ, দল ভাঙার গুঞ্জন এবং নানাবিধ অপকর্মের অভিযোগ সামনে এসেছে। আজ এনসিপি অস্তিত্ব সংকটে নিপতিত।

দুঃখজনকভাবে, যারা একসময় ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে আজ নগ্ন দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠছে। জনগণের আস্থার প্রতীকরা আজ রাঘববোয়ালে পরিণত হয়েছে—এটি জাতির জন্য চরম লজ্জার।

আমজনতার দল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এই ভুল সিদ্ধান্ত ও দায়ীদের বিষয়ে জাতিকে সচেতন হতে হবে। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। সত্য ও ন্যায়ের পথে ফিরে আসাই এখন একমাত্র উপায়।

— আরিফ বিল্লাহ
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক
আমজনতার দল

 

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও খবর

2

© All rights reserved © 2025
ওয়েবসাইট ডিজাইন : মো: নাহিন খান