বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁর শপথের পর প্রথমে নতুন সরকারের মন্ত্রী এবং পরে প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁদের শপথ পড়ান।
এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হলো। একই সঙ্গে প্রায় দুই যুগ পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের যাত্রা শুরু হলো।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসনে জয়ী হয়। বিএনপি জোটের শরিকেরা ৩টি আসন পায়।
বাসসের খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘ ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ এবং ভুটানসহ ১৩টি দেশের বিশ্বনেতাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নয়াদিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
এ ছাড়াও বাংলাদেশ সংসদ কমপ্লেক্সের জমকালো দক্ষিণ প্লাজায় উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং তাঁদের মেয়ে জাইমা রহমান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সাদা জামা ও কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমানকে এ সময় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল। তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রবেশ করলে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়।
এর কয়েক মিনিট পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এরপর প্রথমে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। বাসস জানায়, পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আবদুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম ও শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রীদের শপথের পর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশীদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রীরা। তাঁদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
এর আগে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারপর শপথগ্রহণ করেন মন্ত্রীরা।
পৃথকভাবে তাঁদের সবাইকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এর মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হলো। প্রায় দুই যুগ পর যাত্রা শুরু হলো বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারেরও।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসনে জয়ী হয়। বিএনপি জোটের শরিকেরা ৩টি আসন পায়।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ শেষে শপথ নিলেন মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা। তাঁদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথ পড়ান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার কিছুক্ষণ আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথ পড়ান। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই শপথ অনুষ্ঠান হয়।



২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারে ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। ২০ বছর পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে দলটি। বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় আছেন ৫০ জন। এর মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। টেকনোক্র্যাট তিনজন।
এবারের মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আছে অনেক, যারা আগে কখনও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হননি। প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নেওয়া নেতাও আছেন।
মন্ত্রীদের ২৫ জনের মধ্যে ১৬ জনই নতুন মুখ। প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ২৪ জনই নতুন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এবারই প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হচ্ছেন।
তারেক রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আব্দুল আওয়াল মিন্টু, মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আব্দুল মোকতাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম রিতা, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের সুমন, দীপেন দেওয়ান, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং শেখ রবিউল আলম।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশীদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলাম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক, ইয়াসের খান চৌধুরী, ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রী পরিষদের শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশ বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ জড়ো হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে দেখা যায় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থান থেকে স্লোগান নিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে জড়ো হচ্ছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ জনও জড়ো হন।
মানিক মিয়া এভিনিউ সড়ক থেকে শপথ অনুষ্ঠান দেখার জন্য রাখা হয়েছে বেশ কয়েকটি ডিজিটাল ডিসপ্লে ও সাউন্ড বক্স। অন্য দিকে সকড়ের আরেক প্রান্তে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য সাজানো হয়েছে মঞ্চ।
শপথ অনুষ্ঠান দেখতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে এসেছেন নুর জাহান বেগম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করেছি, বিএনপি আজ সরকারের শপথ নিবে তাই দেখতে এসেছি। আমি আশাকরি আমাদের প্রত্যাশিত কাজ গুলো করবো বিএনপি। মানুষের কথা ভাববে। এবং একটি সুন্দর দেশ তৈরি করবে।’
মানিকগঞ্জ থেকে আসা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আজ অনেক আনন্দিত বিএনপি সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে। আমাদের নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশকে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন আজ মঙ্গলবার সকালেই। বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী আর ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ জনের নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হচ্ছে।
১. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
২. আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
৩. সালাহউদ্দিন আহমদ
৪. ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু)
৫. মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ
৬. এ জেড এম জাহিদ হোসেন
৭. অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট)
৮. আবদুল আউয়াল মিন্টু
৯. কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ
১০. মিজানুর রহমান মিনু
১১. নিতাই রায় চৌধুরী
১২. খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর
১৩. আরিফুল হক চৌধুরী
১৪. জহির উদ্দিন স্বপন
১৫. মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট)
১৬. আফরোজা খানম (রিতা)
১৭. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি
১৮. আসাদুল হাবিব দুলু
১৯. মো. আসাদুজ্জামান
২০. জাকারিয়া তাহের
২১. দীপেন দেওয়ান
২২. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
২৩. সরদার সাখাওয়াত হোসেন (বকুল)
২৪. ফকির মাহবুব আনাম (স্বপন)
২৫. শেখ রবিউল আলম
১. এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
২. অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
৩. মো. শরিফুল আলম
৪. শামা ওবায়েদ ইসলাম
৫. সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
৬. কায়সার কামাল
৭. ফরহাদ হোসেন আজাদ
৮. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট)
৯. মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন
১০. হাবিবুর রশীদ
১১. মো. রাজিব আহসান
১২. মো. আব্দুল বারী
১৩. মীর শাহে আলাম
১৪. জোনায়েদ সাকি
১৫. ইশরাক হোসেন
১৬. ফারজানা শারমিন
১৭. শেখ ফরিদুল ইসলাম
১৮. নুরুল হক
১৯. ইয়াসের খান চৌধুরী
২০. ইকবাল হোসেইন
২১. এম এ মুহিত
২২. আহমেদ সোহেল মঞ্জুর
২৩. ববি হাজ্জাজ
২৪. আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
তরুণ রাজনীতিবিদ অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পাচ্ছেন। তাঁর মিডিয়া উইংয়ের সমন্বয়কারী সুজায়েত সুমন বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ফোনকল পেয়েছেন। কোন মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।’
অনিন্দ্য ইসলাম বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগমের ছোট ছেলে। রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা অনিন্দ্য নিজেও দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক।

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় শপথ গ্রহণের জন্য ফোন পেয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর উপজেলা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি ২০০১ ও ২০০৮ সালে একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের সংসদ সদস্য গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মো. জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আফরোজা খানম রিতা, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ও খলিলুর রহমান মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ডাক পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ও খলিলুর রহমান টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।
রাঙামাটি থেকে বিএনপির মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান মন্ত্রিপরিষদ থেকে ফোন পেয়েছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এবারই প্রথম তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মন্ত্রী হচ্ছেন।
নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য ফারজানা শারমিন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তিনি নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন।
কায়সার কামাল প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন। তিনি নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এবারই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বেলা সোয়া একটার দিকে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছি। দল আমাকে যেভাবে মূল্যায়ন করেছে, এর প্রতিদান কাজের মাধ্যমেই দিতে চাই। সবার দোয়া চাইছি।’

নতুন মন্ত্রিসভায় শপথ নিতে যাচ্ছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সালাহউদ্দিন আহমেদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল আওয়াল মিন্টু, এ জে এম জাহিদ হোসেন, মিজানুর রহমান মিনু, মো. আসাদুজ্জামান, আফরোজা খানম রিতা। তাঁরা সবাই শপথ নেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ থেকে ফোন পেয়েছেন।
জাকারিয়া তাহের সুমন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর–১ (দেওয়ানগঞ্জ–বকশীগঞ্জ) আসন থেকে বিজয়ী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন।
সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ডাক পেয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাঁকে ফোন করা হয়েছে। তিনি ঢাকা-১৬ আসন থেকে নির্বাচন করে হেরেছেন। তিনি টেকনোক্র্যাট হিসেবে শপথ নেবেন।
পঞ্চগড়–২ (বোদা ও দেবীগঞ্জ) আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন। তিনি দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক ও পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্যসচিব।
হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াছিন প্রতিমন্ত্রী হিসেব শপথ নেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন। তিনি টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।

কুমিল্লা-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ মন্ত্রী হচ্ছেন। তিনি ছয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

আরিফুল হক চৌধুরী মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন। তিনি এবারই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে চলব। দল তৃণমূলের একজন কর্মীকে যেভাবে মূল্যায়ন করেছে, এর প্রতিদান কাজের মাধ্যমেই দিতে চাই। সবার দোয়া চাইছি।’
নতুন মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ঠাঁই পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। তিনি আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিলেটবাসী ও দেশবাসীর দোয়া চাইছি। দল যে আস্থা দেখিয়েছে, এর প্রতিদান যেন দিতে পারি।’
আজ বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে খন্দকার আবদুল মুক্তাদীরকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য কল করা হয়েছে। তিনি এবারই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বরিশাল–১ আসনের সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনও ফোন পেয়েছেন। বিএনপির এই নেতা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন।
বগুড়া -২ আসন থেকে নির্বাচিত মীর শাহে আলম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন। তিনি বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন। মীর শাহে আলম বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে নির্বাচিত নুরুল হক (নুর) প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ফোন পেয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ–৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শরীফুল আলম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ফোন পেয়েছেন। বিএনপি থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য এবারই প্রথম নির্বাচনী জয়ী হয়ে আজ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ফোন পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আজ মঙ্গলবার ঢাকায় আসছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে ও ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে এবং পররাষ্ট্রসচিব ভারতের লোকসভার স্পিকারকে ঢাকায় স্বাগত জানাবেন।
অতিথির মধ্যে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নিয়মিত ফ্লাইটে এসেছেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের লোকসভার স্পিকার বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় আসছেন।
এদিকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গতকাল সোমবার দুপুর থেকে আজ ভোর পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরা ঢাকায় পৌঁছেছেন। অনুস্ঠানে যুক্তরাজ্যের ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রা, তুরস্কের আন্ডার সেক্রেটারি বেরিস একিনচি, পাকিস্তানের পরিকল্পনা মন্ত্রী আহসান ইকবাল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, ও শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসা নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেস্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত শনিবার চীন, জাপান, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৪ দেশের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অন্য দেশগুলো হচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলংকা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভূটান।
তবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে চীন, জাপান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেইয়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতেরা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি।

নতুন মন্ত্রিসভার আকার হতে পারে ৫০। নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে আনা–নেওয়ার জন্য ৪৯টি গাড়ি পাঠাচ্ছে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ। এর মধ্যে ২৫ পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে শপথ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে ফোন দিতে শুরু করেছে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ।
এর মধ্যে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন ফোন পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকা সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ এহছানুল হক মিলন মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে।
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আজ বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। যারা যারা মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন, তাদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।
চাঁদপুর–১ আসনের সংসদ সদস্য এহছানুল হক মিলন ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এই আসন থেকে এবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ সকালে সংসদ ভবনে শপথ নেন। তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো
Leave a Reply