
কাঁদাময় বাজারের রাস্তার বেহাল দশা
বেলাব (নরসিংদী) প্রতিনিধি :
কাঁদাময় বাজারের রাস্তার বেহাল দশা। সামান্য বৃষ্টি হলেই বাজারের ভেতরের রাস্তাটির একটু পর পর বিটুমিন উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় এই সড়কে চলাচলকারী, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের। বলছি বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজারের সড়কের কথা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজার পর্যন্ত একটি পাকা সড়ক রয়েছে। বৃষ্টির কারণে এবং রাস্তার পাশে ড্রেনের ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই রাস্তাটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি বেলাব উপজেলা এলজিইডি। ফলে রাস্তাটির অধিকাংশ জায়গায়, বিশেষ করে নারায়ণপুর মোল্লা বাড়ির সামনে, বিটুমিন উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা কাঁদাময় হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে বাজারের আশেপাশের ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রীদের কাঁচা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মাসুদ মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সড়কটিতে দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না হওয়ায় এবং রাস্তার পাশে ড্রেন না থাকায় এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই বাজারেই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও একটি কলেজ রয়েছে। ফলে এই রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী পড়াশোনার জন্য যাতায়াত করে। তাদের যাতায়াতে ভীষণ সমস্যা হয়। কাঁদায় পড়ে গিয়ে প্রায়ই স্কুল ড্রেস নোংরা হয়, চলাচলে সমস্যা হয়। প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটে। রোগী নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ারও কোনো উপায় নেই।”
তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় কাঁদায় গর্ত বোঝা যায় না। তখন মোটরসাইকেল, অটো ভ্যান, অটোরিকশা ও ছোট ট্রাক দুর্ঘটনার শিকার হয়। তাই এই বাজারের রাস্তাটি দ্রুত মেরামত করা জরুরি। আমি ব্যক্তিগতভাবে কিছু ইট ও রাবিশ রাস্তায় দিয়েছি।”
নারায়ণপুর রাবেয়া মহাবিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্র বলেন, “আমরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে কলেজে যাতায়াত করি। রাস্তায় জলাবদ্ধতার কারণে হাঁটাচলায় সমস্যা হয়। মাঝেমধ্যে পা ফসকে বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। আমি এই পরিস্থিতির পরিবর্তন চাই।”
মোটরসাইকেল আরোহী মোঃ সোহেল রানা বলেন, “আমি প্রায়ই এই রাস্তা দিয়ে নারায়ণপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজারে যাই। কয়েকটি স্থানে ভাঙন রয়েছে, রাস্তায় পানি জমে থাকে। এ অবস্থায় মোটরসাইকেল চালানো খুবই কষ্টকর। যদি রাস্তার পাশে ড্রেনের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে জনগণ এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে।”
মোঃ সুমন মিয়া বলেন, “এ জায়গাটিতে ড্রেন না থাকায় পানির কারণে রাস্তা ভেঙে গর্ত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। যদি রাস্তার দু’পাশে ড্রেনের ব্যবস্থা থাকত তাহলে এমন হতো না।”
এ বিষয়ে বেলাব উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম সারোয়ার বলেন, “নারায়ণপুর বাজারের রাস্তার দু’পাশের দোকানগুলো উঁচু করে ফেলার কারণে সড়কে পানি জমে থাকে। আমরা বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হলে সমস্যার সমাধান হবে।”
Leave a Reply