
সুনামগঞ্জ জেলার কাপনা জালালিয়া দাখিল মাদরাসায় সহকারী শিক্ষকের বেতন আটকে রাখাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত মাদরাসা সুপার লতিফ মুন্সী ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘ দুই বছর ধরে শিক্ষিকা জয়নব বিবি’র বেতন বন্ধ রেখেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেতন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে সুপার লতিফ মুন্সী শিক্ষিকাকে গালাগালি করেন। প্রতিবাদ করার পর তিনি শিক্ষিকাকে অফিস কক্ষে তালাবদ্ধ করে তার অনুগত ছাত্রদের উসকে দেন। ছাত্ররা দলবদ্ধভাবে মাদরাসার অফিস কক্ষের সামনে অবস্থান নেয়।
পরে ঘটনাস্থলে শিক্ষিকার ছোট ভাই এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক মাদরাসা সুপার আবুল কাশেম (শিক্ষিকার বাবা) এসে পরিস্থিতি সামলাতে চেষ্টা করলে, ছাত্র ও সুপারের দিকনির্দেশনায় হামলা চালানো হয়। হামলাকারীর মধ্যে ছিলেন মাদরাসার কম্পিউটার অপারেটর সেলিম ও তার আত্মীয় আব্দুল সাত্তার। তারা অভিযোগকারীদের শারীরিকভাবে হেনস্ত করেন। এ সময় শিক্ষিকার ছোট ভাইয়ের মটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, মাদরাসা প্রশাসনের নেতৃত্বে ছাত্রদের ব্যবহার এবং সহকারী শিক্ষিকার পরিবারের উপর হামলা গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
আহতরা হলেন সাবেক মাদরাসা সুপার আবুল কাশেম এবং তার মেয়ে, বর্তমান সহকারী শিক্ষিকা জয়নব বিবি। জানা গেছে, আবুল কাশেম ২২ বছর এই মাদরাসার সুপারের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জয়নব বিবি গত ১০ বছর ধরে মাদরাসায় কর্মরত আছেন। উদ্দেশ্যমূলক কারণে গত দুই বছর ধরে শিক্ষিকা জয়নব বিবি বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, তারা থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় শিক্ষকদের বেতন ও কাজের পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যা পুনরায় প্রকাশ পেয়েছে এবং মাদরাসা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।
Leave a Reply