
শেখ মোঃ বেলায়েত হোসেন (ঢাকা): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রচার-প্রচারণায় সরগরম রাজধানী। তবে ঢাকা-১৭ আসনে (গুলশান, বনানী, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট) নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামান তার নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র প্রচার চালাতে গিয়ে যত্রতত্র স্টিকার লাগাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, কোনো প্রার্থীর পোস্টার বা প্রচারসামগ্রী আঠা দিয়ে দেওয়াল, গেইট বা স্থাপনায় লাগানো যাবে না। অথচ সরেজমিনে দেখা গেছে, এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে অভিজাত এই এলাকার বিভিন্ন ভবনের দেওয়াল, এমনকি বাসাবাড়ির প্রধান দরজাতেও প্রার্থীর ছবি ও প্রতীক সম্বলিত স্টিকার সাঁটিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
নাগরিক ভোগান্তি ও ক্ষোভ:
গুলশান ও বনানী এলাকার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, প্রার্থীর কর্মীরা রাতের আঁধারে কিংবা সুযোগ বুঝে বাসাবাড়ির সদ্য রং করা দেওয়াল, লিফট, এবং দরজায় আঠাযুক্ত স্টিকার লাগিয়ে যাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বনানীর এক বাসিন্দা বলেন, “ প্রচারণার জন্য কেউ আমার অনুমতি ছাড়া আমার বাড়ির দরজায় বা গেইটে স্টিকার লাগাতে পারেন না। এটা ভদ্রতা এবং নির্বাচনী আইন—উভয়ের পরিপন্থী। ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের কর্মীরা যেভাবে সব জায়গায় স্টিকার লাগাচ্ছেন, তাতে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।”
কি বলছে নির্বাচনী আচরণবিধি?
২০২৫-এর বিধিমালা: পোস্টার ও স্টিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
গত ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা নতুন বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারণায় আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বিধি ৭(ক) অনুযায়ী: নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করা যাইবে না।
বিধি ৭(খ) ও (গ) অনুযায়ী: প্রচারণায় শুধুমাত্র ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহার করা যাবে। তবে কোনো অবস্থাতেই কোনো দেওয়াল, ভবন, স্তম্ভ বা ব্যক্তিগত স্থাপনায় আঠা দিয়ে কিছু লাগানো যাবে না।
সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা অনুযায়ী, কোনো দেওয়াল, দালান, থাম, বেড়া, সেতু, সড়ক দ্বীপ, বা যানবাহনে প্রচারণামূলক কোনো লিখন বা পোস্টার/স্টিকার লাগানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পোস্টার বা লিফলেট সাধারণত রশিতে ঝোলানোর নিয়ম। আঠা দিয়ে লাগানোর ফলে স্থাপনার ক্ষতি হয় এবং সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
সরেজমিন চিত্র:
সরেজমিনে ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন অলিগলি ঘুরে দেখা যায়, ডা. এস এম খালিদুজ্জামানের পক্ষে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের ছোট-বড় অসংখ্য স্টিকার বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে শুরু করে মানুষের বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে, দরজায় দেখা যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তার নজরে আনা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা, জরিমানা এমনকি প্রার্থিতা বাতিলেরও বিধান রয়েছে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, নির্বাচনের শুরুতেই যারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন, তাদের দ্বারা জনস্বার্থ রক্ষা কতটুকু সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
https://www.facebook.com/share/v/1HRioTaKQg/
Leave a Reply